আসামের ডিব্রুগড় জেলার মোরানে জাতীয় সড়কের ওপর প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক বিমান অবতরণ নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন:-
ইতিহাসের পাতায় আসাম: জাতীয় সড়কে প্রধানমন্ত্রীর ‘হারকিউলিস’ অবতরণ
নিজস্ব প্রতিনিধি, ডিব্রুগড়: উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিরক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণাক্ষর যুক্ত হলো। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (শনিবার), প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসামের ডিব্রুগড় জেলার মোরান বাইপাসে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর নির্মিত দেশের প্রথম জরুরি অবতরণ স্ট্রিপে (Emergency Landing Facility - ELF) সফলভাবে অবতরণ করেন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় সড়কে বিমান অবতরণ করে তিনি এক অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করলেন।
১. আকাশ থেকে সড়ক: এক রোমাঞ্চকর অবতরণ
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী চাবুয়া বিমানঘাঁটি থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশালাকার C-130J সুপার হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে চড়ে রওনা হন। সকাল ১০:৩০ মিনিট নাগাদ বিমানটি মোরান বাইপাসে ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশেষভাবে নির্মিত রানওয়েতে স্পর্শ করে। এ সময় রানওয়ের দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।
২. কৌশলগত গুরুত্ব ও সক্ষমতা
১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রানওয়েটি কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং এটি ভারতের প্রতিরক্ষা কবচের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
* প্রতিরক্ষা শক্তি: এটি সর্বোচ্চ ৪০ টন ওজনের যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন ওজনের পরিবহন বিমান ওঠানামার ক্ষমতা রাখে।
* বিকল্প রানওয়ে: আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ডিব্রুগড় বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহৃত হবে।
* ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব: চীন ও মায়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এই স্ট্রিপটি ভারতীয় বায়ুসেনাকে দ্রুত রসদ ও সেনা মোতায়েনে বিপুল সহায়তা করবে।
৩. আকাশে রণহুঙ্কার: বায়ুসেনার শক্তি প্রদর্শন
প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের পর আকাশে শুরু হয় ভারতীয় বায়ুসেনার বর্ণাঢ্য মহড়া। সুখোই-৩০ এমকেআই (Sukhoi-30 MKI) এবং রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানগুলো মোরানের আকাশে ডানা মেলে তাদের অসামান্য ক্ষিপ্রতা প্রদর্শন করে। এছাড়াও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস এবং এএন-৩২ বিমানগুলো 'টাচ-অ্যান্ড-গো' মহড়ায় অংশ নেয়।
৪. প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী আসামের ঐতিহ্যবাহী 'জাপি' ও 'গামুসা' দিয়ে সংবর্ধিত হন। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন:
> "আজকের এই সফল অবতরণ প্রমাণ করে যে ভারত আজ আকাশ থেকে সড়ক—সব জায়গাতেই সুরক্ষিত ও স্বাবলম্বী। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই আধুনিক পরিকাঠামো আগামী দিনে কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ সরবরাহেও জীবনদায়ী ভূমিকা পালন করবে।"
এই ঐতিহাসিক ঘটনার মাধ্যমে ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে যেমন এক নীরব বার্তা দিল, তেমনি আসামের সাধারণ মানুষের মনে পরিকাঠামো উন্নয়নের এক নতুন আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলল।
