ভোটের দিনটি ছিল উৎসবের, অন্তত কাগজে-কলমে। কিন্তু সেই দিনটি পেরিয়ে যাওয়ার পর ঢাকার রাজপথের চিরচেনা যানজট যেন এক থমথমে নীরবতায় রূপ নিয়েছে। ঢাকা এখন আর কেবল একটি মেগাসিটি নয়, বরং একটি রাজনৈতিক দাবা খেলার বোর্ড, যেখানে প্রতিটি অলিগলি এখন হিসাব মেলাচ্ছে—কে হারল আর কে জিতল।
উত্তাপ যখন অন্দরে
নির্বাচন-পরবর্তী এই সময়টাতে সাধারণত বিজয় মিছিলের জোয়ার থাকার কথা, কিন্তু এবারের দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন। রাজপথের বড় বড় তোরণগুলোর নিচে এখন উল্লাসের চেয়ে বেশি কাজ করছে অনিশ্চয়তা।
পলিটিক্যাল হ্যাংওভার: ভোটের উত্তেজনা নামার বদলে পাড়ায় পাড়ায় ছোটখাটো মহড়া এবং আধিপত্য বিস্তারের এক অদৃশ্য লড়াই শুরু হয়েছে।
সাধারণের শঙ্কা: মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ যারা প্রতিদিনের রুটিরুজির জন্য পথে বের হন, তাদের চোখেমুখে এখন একটাই প্রশ্ন— "আবারও কি অবরোধ বা অস্থিরতা ফিরবে?"
অর্থনীতির চাকা ও থমকে থাকা গলি
ঢাকার প্রাণ হলো এর ব্যবসা-বাণিজ্য। নিউ মার্কেট থেকে শুরু করে মতিঝিল—সবখানেই এক অদ্ভুত ধীরগতি। দোকানদারদের মতে, মানুষ কেনাকাটার চেয়ে এখন সঞ্চয় বা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বেশি আগ্রহী।
"ভোট শেষ হলে শান্তি আসবে ভেবেছিলাম, কিন্তু এখন গলি দিয়ে হাঁটার সময়ও দুবার তাকাতে হয়। কার সাথে কার রেষারেষি চলছে বোঝা বড় দায়।" — জনৈক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ঢাকা।
যে অশান্তি দেখা যায় না
রাস্তায় আগুন বা ভাঙচুর না থাকলেও, এক ধরণের সামাজিক বিভাজন প্রবল হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেশী দূরত্ব: রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্যের কারণে একই ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের মধ্যে কথা বলা কমেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ট্রল: মাঠের অশান্তি এখন স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। একে অপরকে কটাক্ষ করে দেওয়া স্ট্যাটাসগুলো সামাজিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
শান্তির চাবিকাঠি কোথায়?
শান্তি কেবল নিরাপত্তা বাহিনীর টহল দিয়ে আসে না। ঢাকার এই অস্থিরতা কাটাতে প্রয়োজন:
সহনশীলতার সংস্কৃতি: জয়ী এবং বিজিত—উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংযম।
গুজব প্রতিরোধ: ইন্টারনেটে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করা।
উপসংহার
ঢাকা শহরটা আমাদের সবার। রাজনৈতিক পালাবদল বা ক্ষমতার সমীকরণ যা-ই হোক না কেন, দিনশেষে সাধারণ মানুষ একটু শান্তিতে ঘুমাতে চায়। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে রাজনীতির আলাপ চলুক, কিন্তু সেই আলাপের আঁচ যেন কারও ঘরের জানালায় গিয়ে না লাগে।
