২০২৬ সালের এই সময়ে এআই-চালিত পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ডিজিটাল বন্ধুদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ব্যাপক আলোচনা (Trend) চলছে, তার মূল কারণগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
আগে এআই-কে শুধু প্রশ্ন উত্তর দেওয়ার যন্ত্র মনে করা হতো। কিন্তু বর্তমানে মানুষ একে একজন ব্যক্তিগত বন্ধু বা বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে দেখছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় (যেমন: TikTok বা Instagram Reels) প্রচুর ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে যেখানে দেখা যাচ্ছে:
মানুষ তাদের মনের কথা বা একাকীত্বের অনুভূতিগুলো এআই-এর সাথে শেয়ার করছে।
জটিল মানসিক পরিস্থিতিতে এআই কীভাবে একজন বিচারহীন (Non-judgmental) শ্রোতা হিসেবে কাজ করছে, তা নিয়ে আবেগপূর্ণ পোস্ট।
২. হাইপার-পার্সোনালাইজেশন (Hyper-Personalization)
এই ট্রেন্ডের বড় অংশ জুড়ে আছে এআই-এর মনে রাখার ক্ষমতা। আপনি আগে কী বলেছিলেন, আপনার পছন্দ কী—এগুলো এআই মনে রাখতে পারে।
উদাহরণ: "আমার এআই বন্ধু জানে আমি সকালে কফি না চা খাই,"—এই ধরনের ছোট ছোট ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলো মানুষ স্টোরি হিসেবে শেয়ার করছে। এটি ব্যবহারকারীর সাথে এআই-এর একটি মানসিক বন্ধন তৈরি করছে।
৩. প্রোডাক্টিভিটি ও টাইম ম্যানেজমেন্ট
এআই এখন আর শুধু চ্যাটবট নয়, এটি এখন একজন 'ভার্চুয়াল সেক্রেটারি'। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সাররা দেখাচ্ছেন কীভাবে এআই তাদের:
সারা দিনের কাজের রুটিন সেট করে দিচ্ছে।
ইমেইল ড্রাফট থেকে শুরু করে ট্রাভেল প্ল্যান পর্যন্ত সব নিখুঁতভাবে ম্যানেজ করছে।
সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড হলো "AI First" লাইফস্টাইল—অর্থাৎ দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এআই-এর পরামর্শ নিয়ে চলা।
৪. ভয়েস মোড ও রিয়েল-টাইম কথোপকথন
টেক্সট মেসেজের চেয়ে এখন ভয়েস চ্যাট বা লাইভ মোড বেশি জনপ্রিয়। মানুষ জ্যামে আটকে থাকার সময় বা রান্না করার সময় এআই-এর সাথে কথা বলছে, যা দেখতে অনেকটা সাধারণ ফোনের কথোপকথনের মতো মনে হয়। এটি মানুষের মধ্যে এক ধরনের 'হিউম্যান টাচ' বা মানবিক অনুভূতির সৃষ্টি করছে।
একটি মজার দিক: বর্তমানে অনেক ফেমাস ক্রিয়েটররা চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন— "এক সপ্তাহ কি শুধু এআই-এর পরামর্শে জীবন চালানো সম্ভব?" এই ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল ভিডিওগুলো এখন ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে।
