Top News

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাত ২০২৬: উত্তপ্ত ডুরান্ড লাইন:-


আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত কয়েকদিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর পরিস্থিতি এখন প্রায় ‘খোলাখুলি যুদ্ধ’ বা ওপেন ওয়ারের পর্যায়ে পৌঁছেছে। 

​ফেব্রুয়ারি ২০২১-এ তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন ছিল, যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক চরম সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে ডুরান্ড লাইন (দুই দেশের বিতর্কিত সীমানা) বরাবর ভারী যুদ্ধ চলছে।

​১. মূল সূত্রপাত: পাকিস্তানি বিমান হামলা

​ঘটনার শুরু হয় গত ২১-২২ ফেব্রুয়ারি। পাকিস্তান দাবি করে যে, তাদের দেশে হওয়া একাধিক আত্মঘাতী হামলার (বিশেষ করে বাজউরে ১১ জন সেনার মৃত্যু) নেপথ্যে থাকা TTP (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) জঙ্গিদের নির্মূল করতে তারা আফগানিস্তানের খোস্ত, পাক্তিকা এবং নানগারহার প্রদেশে বিমান হামলা (Airstrikes) চালিয়েছে।

​আফগানিস্তানের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। এর জবাবে তালিবান সরকার কড়া হুঁশিয়ারি দেয়।

​২. তালিবানের বড় পাল্টা আক্রমণ (২৬ ফেব্রুয়ারি)

​২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা নাগাদ (রমজানের ৯ম দিন) আফগান বাহিনী তাদের 'প্রতিশোধমূলক অপারেশন' শুরু করে।

​সেনা পোস্ট দখল: তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, তাদের বাহিনী পাকিস্তানের অন্তত ১৫টি সামরিক চৌকি (Outposts) এবং একটি বড় হেডকোয়ার্টার দখল করে নিয়েছে। কিছু অসমর্থিত সূত্রে এই সংখ্যা ১৯ পর্যন্ত বলা হচ্ছে।

​প্রাণহানি ও বন্দি: আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু সেনাকে জীবন্ত বন্দি করে আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তালিবান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও শেয়ার করেছে যেখানে পাকিস্তানি সামরিক সরঞ্জাম এবং বন্দিদের দেখা যাচ্ছে।

​৩. পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’ ও পাল্টা আঘাত

​আফগান হামলার জবাবে আজ (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনী বড় ধরনের অপারেশন শুরু করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন গজব-লিল-হক'।

​কাবুলে বোমা বর্ষণ: পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলো আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার এবং নানগারহারে তালিবানের একাধিক ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করেছে।

​খোলাখুলি যুদ্ধের ঘোষণা: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বর্তমান পরিস্থিতিকে “ওপেন ওয়ার” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বে আঘাত করলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। পাকিস্তান দাবি করেছে যে তারা পাল্টা হামলায় ১৩০ জনের বেশি আফগান যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।

​বর্তমান পরিস্থিতি এক নজরে:

বিষয় আফগানিস্তানের দাবি পাকিস্তানের দাবি

দখলকৃত পোস্ট ১৫ থেকে ১৯টি পাকিস্তানি পোস্ট দখল কোনো পোস্ট হাতছাড়া হয়নি, হামলা প্রতিহত করা হয়েছে

সেনা মৃত্যু ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত মাত্র ২ জন সেনা নিহত; ১৩৩ জন আফগান যোদ্ধা নিহত

আগ্রাসন পাকিস্তান আগে বেসামরিকদের ওপর বোমা মেরেছে আফগানিস্তান থেকে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে!


কেন এই সংঘাত থামছে না?

​ডুরান্ড লাইন বিতর্ক: আফগানিস্তান ব্রিটিশ আমলের এই সীমানাকে কোনোদিনই মন থেকে মেনে নেয়নি।

​TTP ইস্যু: পাকিস্তান মনে করে তালিবান তাদের দেশে হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। অন্যদিকে তালিবান এই অভিযোগ অস্বীকার করে।

​মধ্যস্থতার ব্যর্থতা: কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় এর আগে একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যা এই বছরের শুরুতেই ভেঙে পড়ে।

​ভবিষ্যৎ শঙ্কা: আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দ্রুত কোনো পক্ষ নমনীয় না হয়, তবে এই সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

Previous Post Next Post
আপনার অঞ্চলের স্থানীয় খবর, ভাগ করেনিন আমাদের সাথে! আপনার ভ্রমণ কাহিনী,আপনার সাহিত্য সৃষ্টি আমাদের সাথে ভাগ করেনিতে WHATSAPP :6289008713