"সন্ত্রাসী হামলায় লণ্ডভণ্ড বালোচিস্তানের গ্যাস পাইপলাইন: কোয়েটাসহ ৫ জেলায় হাহাকার, অন্ধকার ও ঠান্ডায় চরম ভোগান্তি!"
বালোচিস্তানে গ্যাস পাইপলাইনে নাশকতামূলক হামলা: কোয়েটাসহ একাধিক জেলায় গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | কোয়েটা ৩১ মার্চ, ২০২৬
পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার উপকণ্ঠে একটি প্রধান গ্যাস পাইপলাইনে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে সংঘটিত এই হামলায় পাইপলাইনের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে কোয়েটা শহর এবং প্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কোয়েটার ওয়েস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন আখতারাবাদ এলাকায় দুর্বৃত্তরা পাইপলাইনের নিচে শক্তিশালী বিস্ফোরক স্থাপন করে এটি উড়িয়ে দেয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, পাইপলাইনে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং আগুনের শিখা অনেক দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল। ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সুই সাউদার্ন গ্যাস কোম্পানির (SSGC) একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, হামলায় ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের একটি প্রধান সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাশকতার খবর পাওয়ার পরপরই গ্যাস কর্তৃপক্ষ প্রধান ভালভ বন্ধ করে দেয় এবং দমকল বাহিনীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
এই বিস্ফোরণের ফলে কোয়েটার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ছাড়াও বেশ কিছু জেলায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
* কোয়েটা শহর: এয়ারপোর্ট রোড, জিন্নাহ টাউন, হাজারগঞ্জি, নাওয়ান কালি।
* অন্যান্য জেলা: পিশিন, জিয়ারত, কালাত, মাস্তুং এবং কুচলক।
তীব্র ঠান্ডার মধ্যে আকস্মিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও তদন্ত
বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড (BDS) প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতা (Sabotage)। পাইপলাইনের একটি বিশাল অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। SSGC-এর কারিগরি দল মেরামতের কাজ শুরু করার জন্য প্রস্তুত থাকলেও, নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, পাইপলাইনটি পুনরায় সচল করতে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
এখনও পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ওই অঞ্চলে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো অতীতেও বিভিন্ন সময় সরকারি স্থাপনা ও গ্যাস পাইপলাইনে এ ধরনের হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


