মালদহের কালিয়াচকে ৭ জন বিচারককে আটকে রাখার ঘটনা এবং তার পরবর্তী এনআইএ (NIA) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারকদের ওপর হামলা ও অবরোধ: মালদহ কাণ্ডের তদন্তভার নিল এনআইএ (NIA)
কালিয়াচক, মালদহ: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে মালদহের কালিয়াচকে ৭ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে (Judicial Officers) দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনায় এবার হস্তক্ষেপ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। গত বুধবার কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও (BDO) অফিসে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার কাজ চলাকালীন একদল উন্মত্ত জনতা বিচারকদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির তদন্তভার বৃহস্পতিবার এনআইএ-র হাতে তুলে দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
বুধবার বিকেলে কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে সরব হন একদল স্থানীয় বাসিন্দা। তারা বিডিও অফিসের ভেতর ঢুকে ৭ জন বিচারককে (যার মধ্যে ৩ জন নারী আধিকারিক ছিলেন) ঘেরাও করেন। অভিযোগ উঠেছে যে, আধিকারিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জল ও খাবার ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকি এক নারী আধিকারিকের পাঁচ বছরের সন্তানও সেই সময় সেখানে আটকে পড়েছিল বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
সুপ্রিম কোর্টের কঠোর অবস্থান
এই ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত কড়া মনোভাব পোষণ করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে রাজ্য প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআই (CBI) বা এনআইএ-কে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আদালতের সেই পর্যবেক্ষণের পরেই নির্বাচন কমিশন এনআইএ তদন্তের নির্দেশ জারি করে।
প্রশাসনিক রদবদল ও ধরপাকড়
এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে মালদহের জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP) এবং রাজ্যের ডিজেপি-কে (DGP) তীব্র ভর্ৎসনা করেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর:
* ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
* বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের বাসভবনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
* এনআইএ-র একটি বিশেষ দল শুক্রবারই মালদহে পৌঁছে তদন্ত শুরু করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত আধিকারিকদের ওপর এই ধরণের হামলা বা হেনস্তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আগামী ৬ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে সুপ্রি
ম কোর্টে।



