হোবা মেটিওরাইট!
অবিশ্বাস্য মহাজাগতিক এক বিস্ময়!
এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে বড় উল্কাপিণ্ড হোবা মেটিওরাইট(hoba meteor)!
১৯২০ সাল নাগাদ নামিবিয়ার গ্রুটফন্টেইন অঞ্চলের এক কৃষক জমিতে লাঙল দাওয়ার সময় লাঙল হঠাৎ শক্ত কিছুতে আটকে যায়,কৌতূহলবশত খুঁড়তে গিয়ে আবিষ্কার হয় অবিশ্বাস্য মহাজাগতিক এক বিস্ময়!
বিজ্ঞানীরা নাম রাখলেন হোবা মেটিওরাইট।
এটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় দানবীয় উল্কাপিণ্ড,
যার ওজন প্রায় ৬০ টন!
উল্কাপিণ্ডটি লম্বা এবং চওড়ায় প্রায় ২.৭ মিটার!
পুরুত্ব ৩ ফুট!
উল্কাটির গঠনের ৮৪ ভাগই লোহা, বাকি ১৬ ভাগ নিকেল ও অন্যান্য উপাদান।মহাজাগতিক এই দানবীয় অবিশ্বাস্য বিস্ময় আবিষ্কার
পদার্থবিজ্ঞানী মহলকে যেমন উৎসাহিত করেছিল তেমনি আবিষ্কারের চেয়েও বড় একটি রহস্য বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলল!
মহাকাশ থেকে মাঝারি কোনো উল্কা পড়লেও সাধারণত মাটিতে বিশাল গর্ত তৈরি হয়!কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে দানবীয় ৬০ টনের এই উল্কাপিণ্ডটি আকাশ থেকে আছড়ে পোড়ে বড় কোনো গর্ত সৃষ্টি করেনি!
উল্কাপিণ্ডটির সাইটিং দেখে মনে হচ্ছিল পালকের মতো ভাসতে ভাসতে পৃথিবীর বুকে সুক্ষ অবতরণ করেছে,কেউ আলতো করে মাটির ওপর বসিয়ে দিয়ে গেছে!
বিজ্ঞানী মহলের ধারণা ছিল, হয়তো এটি কোনো বড় উল্কার ভাঙা অংশ!
কিন্তু আশপাশের অঞ্চলে বিস্তর অনুসন্ধান চালালেও এর আর কোনো অবশিষ্ট অংশ পাওয়া যায়নি।
আধুনিক গবেষণায় কম্পিউটার মডেলিংএর প্রয়োগে জট খোলে মহাজাগতিক এই বিস্ময়ের!
আসলে হোবা উল্কাপিণ্ডটির বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের ধরণ, এর গঠন ও এর আকৃতিই চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে হোবা মেটিওরাইটকে।উল্কাপিণ্ডটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অধিক খাড়াভাবে প্রবেশ করেনি। এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তুলনামূলক কম গতিতে প্রবেশ করেছিল!
চ্যাপ্টা আকৃতির কারণে বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণের মুখে উল্কাপিণ্ডটির গতি অসম্ভব ভাবে কমে যায়। ভূপৃষ্ঠে আঘাত করার,ঠিক পূর্বমুহূর্তে গতি সেকেন্ডে কয়েকশ মিটারে নেমে আসে! ফলে বিধ্বংসী মহাজাগতিক গতিবেগ আর না থাকার ফলে উল্কাপিণ্ডটি কোনো বড় বিস্ফোরণ না ঘটিয়েই তুলনামূলক মসৃন ভাবে ভূপৃষ্ঠ স্পর্শ করেছিল!
আজও অক্ষত অবস্থায় নামিবিয়ার সেই খামারে সংরক্ষিত আছে মহাজাগতিক বিস্ময় হোবা মেটিওরাইট!


You must be logged in to post a comment.