মালদহ স্টেশনে ইসমাইল শেখের গ্রেফতারির ঘটনাটি নিচে তুলে ধরা হলো:
মালদহ টাউন স্টেশনে বড়সড় সাফল্য: ১০ কোটির মাদকসহ গ্রেফতার মাদক পাচারকারী ইসমাইল শেখ
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মালদহ জেলাকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে মাদক পাচারের এক বড়সড় ছক বানচাল করল রেল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদহ টাউন স্টেশনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ কেজি ব্রাউন সুগারসহ ইসমাইল শেখ নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আরপিএফ (RPF) এবং জিআরপি (GRP)। উদ্ধার হওয়া এই মাদকের আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য আনুমানিক ১০ কোটি টাকা।
অভিযানের বিবরণ
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বড়সড় একটি মাদকের চালান মালদহ হয়ে পাচার হওয়ার আগাম খবর ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। সেই মতো গত রাতে মালদহ টাউন স্টেশনে কড়া নজরদারি শুরু করেন রেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। একটি নির্দিষ্ট ট্রেনের কামরা থেকে সন্দেহভাজন অবস্থায় ইসমাইলকে আটক করা হয়। তার ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হয় প্রায় ২ কেজি ৯৮০ গ্রাম উচ্চমানের ব্রাউন সুগার।
পাচারকারীর পরিচয় ও নেপথ্য কাহিনী
ধৃত ইসমাইল শেখ (৩৯) মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি থানার অন্তর্গত চাঁদনিচক এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে:
* সে এই বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর থেকে আসছিল।
* মালদহ স্টেশনকে সে ‘সেফ প্যাসেজ’ হিসেবে ব্যবহার করে এই মাদক অন্য রাজ্যে বা প্রতিবেশী দেশে পাচারের পরিকল্পনা করেছিল।
* পুলিশের ধারণা, সে দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ‘কুরিয়ার’ হিসেবে কাজ করছে।
কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই ব্যবসার মাধ্যমে ইসমাইল গত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছে। যদিও সে নিজেকে সাধারণ একজন শ্রমিক বা ছোট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিত, কিন্তু তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং স্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে এটি একটি বিশাল সিন্ডিকেটের অংশ। এই মাদক ব্যবসার লভ্যাংশ দিয়ে সে বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং অবৈধ সম্পত্তি গড়ে তুলেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বর্তমানে ইসমাইল শেখ পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। তাকে জেরা করে এই চক্রের মূল পান্ডা বা ‘ড্রাগ লর্ড’-দের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে মালদহ পুলিশ ও সিআইডি। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে এই মাদকের রুট ঠিক কতটা বিস্তৃত, তা জানাই এখন গোয়েন্দাদের প্রধান লক্ষ্য।
> দ্রষ্টব্য: মালদহে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে বর্তমানে অত্যন্ত কড়াকড়ি চলছে। সম্প্রতি এনারুল শেখের মতো বড় মাপের মাদক মাফিয়ারাও পুলিশের জালে ধরা পড়েছে, যা এই এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযানে একটি বড় মাইলফলক।


