Top News

ড্রোন যুদ্ধ জয়ে বড় পদক্ষেপ: জেন টেকনোলজিকে ৪০০ কোটিরও বেশি টাকার নতুন কার্যাদেশ দিল ভারত সরকার

 ড্রোন যুদ্ধ জয়ে বড় পদক্ষেপ: জেন টেকনোলজিকে ৪০০ কোটিরও বেশি টাকার নতুন কার্যাদেশ দিল ভারত সরকার

       নয়াদিল্লি/হায়দ্রাবাদ: উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের জন্য হায়দ্রাবাদভিত্তিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘জেন টেকনোলজি লিমিটেড’ (Zen Technologies Limited)-কে বিশাল অংকের নতুন কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে আসা এই চুক্তিটি ভারতের 'আত্মনির্ভর ভারত' অভিযানে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

৪০০ কোটির মেগা চুক্তি

সাম্প্রতিক প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভারত সরকার জেন টেকনোলজির সাথে প্রায় ৪০৪ কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির সিংহভাগ অংশ—অর্থাৎ প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা—ব্যয় করা হবে অত্যাধুনিক কাউন্টার আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS) বা অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম সরবরাহের কাজে। বাকি ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বিশেষ জেন-ট্রেনিং সিমুলেটরের জন্য, যা প্রতিরক্ষা কর্মীদের ড্রোন মোকাবিলায় দক্ষ করে তুলবে।

কেন এই অত্যাধুনিক সিস্টেমের প্রয়োজন?

গত কয়েক বছরে পাঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তান থেকে ড্রোন পাঠিয়ে মাদক ও অস্ত্র পাচারের ঘটনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এছাড়াও আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে (যেমন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ) ড্রোনের বিধ্বংসী ক্ষমতা দেখে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী নিজেদের ড্রোন-প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে মরিয়া।

জেন টেকনোলজি সিস্টেমের বিশেষত্ব:

জেন টেকনোলজির তৈরি এই সিস্টেমগুলো মূলত দ্বি-মুখী কাজ করে:

১. সফট কিল (Soft Kill): এটি শত্রু ড্রোনের রেডিও সিগন্যাল এবং জিপিএস জ্যাম করে দিয়ে সেটিকে অকেজো করে দেয়।

২. হার্ড কিল (Hard Kill): এটি সরাসরি ড্রোনকে লক্ষ্য করে সেটিকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম।

৩. মাল্টি-সেন্সর ডিটেকশন: এতে রাডার, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর রয়েছে যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এবং রাতেও ড্রোন শনাক্ত করতে পারে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে ভরসা

২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকেই জেন টেকনোলজি ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের একটি অন্যতম স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের শেষার্ধে তারা আরও প্রায় ২৮৯ কোটি টাকার একটি অর্ডার পেয়েছিল বর্তমান সিস্টেমগুলোর আধুনিকায়নের জন্য। নতুন এই ৪০০ কোটি টাকার অর্ডারের মাধ্যমে স্পষ্ট যে, ভারত সরকার বিদেশি আমদানির বদলে দেশীয় প্রযুক্তির ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছে।

বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন টেকনোলজির এই সিস্টেমগুলো মোবাইল এবং স্ট্যাটিক—উভয় পদ্ধতিতেই ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে একে যেমন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে বসানো যাবে, তেমনই ট্রাকে করে যুদ্ধের ময়দানে বা দুর্গম সীমান্তেও নিয়ে যাওয়া যাবে।

দ্রষ্টব্য: এই চুক্তিটি কেবল ভারতের আকাশসীমাকে সুরক্ষিতই করবে না, বরং বিশ্ববাজারে ভারতীয় প্রতিরক্ষা রপ্তানির সম্ভাবনা

কেও উজ্জ্বল করবে।

Previous Post Next Post
আপনার অঞ্চলের স্থানীয় খবর, ভাগ করেনিন আমাদের সাথে! আপনার ভ্রমণ কাহিনী,আপনার সাহিত্য সৃষ্টি আমাদের সাথে ভাগ করেনিতে WHATSAPP :6289008713