রক্ত পরীক্ষা ছাড়াই রোগ নির্ণয়! আইআইটি খড়গপুরের ‘স্মার্ট ব্রেথ অ্যানালাইজার’ চিকিৎসাবিজ্ঞানে আনছে বড় বদল
খড়গপুর/পশ্চিমবঙ্গ: ইনজেকশনের সুঁই ফুটিয়ে আর রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার এক ফুঁ-তেই ধরা পড়বে শরীরের যাবতীয় সমস্যা। খড়গপুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT Kharagpur)-এর একদল বিজ্ঞানী এমনই এক অভাবনীয় AI-Powered Breathalyzer বা নিঃশ্বাস বিশ্লেষণ যন্ত্র তৈরি করেছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত ধারাই বদলে দিতে পারে।
প্রযুক্তির ম্যাজিক: নিঃশ্বাসই বলবে স্বাস্থ্যের খবর
সাধারণত আমরা জানি ব্রেথলাইজার ব্যবহার করা হয় মদ্যপ চালক শনাক্ত করতে। কিন্তু আইআইটি খড়গপুরের এই নতুন যন্ত্রটি তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী। আমাদের নিঃশ্বাসে মিশে থাকা ভolatাইল অর্গানিক কম্পাউন্ডস (VOCs) বা উদ্বায়ী জৈব যৌগগুলো বিশ্লেষণ করে এটি বলে দিতে পারে শরীরে কোনো রোগ বাসা বেঁধেছে কি না। এই যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যন্ত সংবেদনশীল ন্যানো-সেন্সর এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)।
কোন কোন রোগ শনাক্ত হবে?
গবেষকদের দাবি, এই স্মার্ট ডিভাইসটি মূলত তিনটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করতে পারদর্শী:
* ডায়াবেটিস: নিঃশ্বাসে অ্যাসিটোনের মাত্রা মেপে এটি সুগার লেভেলের নির্ভুল ধারণা দেয়।
* কিডনির সমস্যা: শরীরে ইউরিয়া বা অ্যামোনিয়ার ভারসাম্যহীনতা নিঃশ্বাসের মাধ্যমেই ধরা পড়বে।
* লিভারের জটিলতা: লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে নিঃশ্বাসে যে বিশেষ পরিবর্তন আসে, তা এই AI ডিটেক্ট করতে সক্ষম।
কেন এটি বৈপ্লবিক?
১. সম্পূর্ণ ব্যথাহীন (Non-invasive): শিশু বা বৃদ্ধ যারা সুঁই ফোটানো ভয় পান, তাদের জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ।
২. তাৎক্ষণিক ফলাফল: ল্যাবে গিয়ে রক্তের রিপোর্টের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হবে না। কয়েক মিনিটেই প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়া যাবে।
৩. সাশ্রয়ী ও বহনযোগ্য: এই যন্ত্রটি আকারে ছোট হওয়ায় গ্রামগঞ্জের সাধারণ ক্লিনিকেও এটি ব্যবহার করা যাবে, যা সাধারণ মানুষের খরচ অনেক কমিয়ে দেবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ভূমিকা
এই যন্ত্রটির প্রাণ হলো এর ভেতরে থাকা AI অ্যালগরিদম। কয়েক হাজার রোগীর নিঃশ্বাসের ডেটা বিশ্লেষণ করে এই AI-কে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যে, এটি সাধারণ সুস্থ মানুষের নিঃশ্বাস এবং একজন রোগীর নিঃশ্বাসের সূক্ষ্মতম পার্থক্যও ধরতে পারে। ফলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বাণিজ্যিক ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ
আইআইটি খড়গপুরের এই প্রোটোটাইপটি এখন ক্লিনিকাল ট্রায়াল এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গবেষক দলের আশা, খুব শীঘ্রই এটি বড় আকারে উৎপাদনে যাবে এবং সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে। এটি বাজারে এলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মানুষকে আর বড় বড় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটতে হবে না।
বিশেষজ্ঞের মত: "এটি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি বড় সাফল্য। ডিজিটাল হেলথ এবং ঘরে বসে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এটি গেম-চে
ঞ্জার হতে চলেছে।"
