নিজস্ব প্রতিনিধি, News HUNGAR | ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নয়াদিল্লি/তিরুবনন্তপুরম: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। দক্ষিণ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য 'কেরল'-এর নাম পরিবর্তন করে সরকারিভাবে 'কেরলম' (Keralam) রাখার প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আজকের এই সিদ্ধান্তের পর থেকে সংবিধানের প্রথম তফসিলসহ সমস্ত সরকারি নথিতে রাজ্যটি নতুন নামেই পরিচিত হবে।
কেন এই পরিবর্তন?
মালায়লাম ভাষায় এই রাজ্যকে আদিকাল থেকেই 'কেরলম' বলা হয়। গত কয়েক বছর ধরেই কেরল বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের যুক্তি ছিল, 'কেরল' নামটি মূলত ঔপনিবেশিক প্রভাব এবং ইংরেজি উচ্চারণের ফসল। মালায়লাম ঐতিহ্য এবং ভাষাগত বিশুদ্ধতা বজায় রাখতেই এই 'ম' কার যুক্ত করার দাবি উঠেছিল।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠন: ১৯৫৬ সালের ১লা নভেম্বর মালায়লামভাষী এলাকাগুলোকে নিয়ে যখন প্রথম রাজ্য গঠিত হয়, তখন থেকেই স্থানীয়রা একে 'কেরলম' হিসেবেই দেখতেন।
সংবিধান সংশোধন: ভারতীয় সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে কেন্দ্রের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। আজ সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াটির বড় বাধা দূর হলো।
প্রসাশনিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব
এই পরিবর্তনের ফলে আগামী কয়েক মাস রাজ্য প্রশাসনের ওপর বড় চাপ থাকবে:
১. সরকারি নথি: রেশন কার্ড থেকে শুরু করে আধার কার্ডের তথ্যভাণ্ডারে বদল আনতে হবে।
২. ব্র্যান্ডিং: পর্যটন দপ্তরের 'Kerala Tourism' লোগো এবং স্লোগানেও আসবে পরিবর্তনের ছোঁয়া।
৩. শিক্ষা ও গেজেট: স্কুলের পাঠ্যবই এবং গেজেট নোটিফিকেশনে এখন থেকে 'কেরলম' ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে।
রাজনীতির অলিন্দে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ভারতের ভাবাবেগকে সম্মান জানাতেই ২০২৬-এর এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। তবে বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, নামের পরিবর্তনের চেয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নে বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন ছিল কিনা।
News HUNGAR ফ্যাক্ট-চেক:
এর আগেও ভারতের একাধিক রাজ্যের নাম পরিবর্তন হয়েছে। যেমন:
উত্তরাঞ্চল থেকে হয়েছিল উত্তরাখণ্ড (২০০৭)।
উড়িষ্যা থেকে হয়েছিল ওড়িশা (২০১১)।
পন্ডিচেরি থেকে হয়েছিল পুদুচেরি (২০০৬)।
