খবর বিশেষ: ধেয়ে আসছে দুর্যোগ, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে অকাল বৃষ্টির ভ্রুকুটি
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বসন্তের আমেজের মাঝেই ভোলবদল প্রকৃতির। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় ঘূর্ণিঝড়ের (যেমন 'অসনিকা') সরাসরি আছড়ে পড়ার খবর নেই। তবে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ও বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের জোড়া প্রভাবে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির দাপট বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।
আগামী ১৬ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে রাজ্যের একাধিক জেলায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকতে পারে:
* উত্তরবঙ্গ: কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার।
আরও পড়ুন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: ইমামদের বেতন সর্বোচ্চ ৭০ হাজার!
* দক্ষিণবঙ্গ: কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন জেলাগুলিতে (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া) বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার ছুঁতে পারে।
* উপকূলীয় এলাকা: দিঘা, মন্দারমণি এবং হলদিয়া সংলগ্ন এলাকায় সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা থাকায় মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হয়েছে।
রক্ষা পেতে করণীয়: জরুরি সতর্কতা
প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে:
১. পাকা বাড়িতে আশ্রয় নিন: ঝড়ের সময় মাটির বাড়ি বা পুরনো বিপজ্জনক বাড়ি এড়িয়ে নিরাপদ পাকা ইমারতে অবস্থান করুন।
২. বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম: বজ্রপাতের সময় মোবাইল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন এবং টিভি, ফ্রিজের মতো ইলেকট্রনিক প্লাগ খুলে রাখুন।
আরও পড়ুন নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে ইরানি মিডিয়ায় তোলপাড়: জল্পনা নাকি প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ?
৩. গাছ ও খুঁটি থেকে দূরে: ঝোড়ো হাওয়ার সময় বড় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংয়ের নিচে দাঁড়াবেন না।
৪. জরুরি কিট: ঘরে টর্চ, মোমবাতি, শুকনো খাবার এবং পানীয় জল মজুত রাখুন। আপনার পোষ্যদের (যেমন মেনু) জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে ভুলবেন না।
৫. গুজবে কান দেবেন না: সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো কোনো আতঙ্কিত খবরে বিশ্বাস না করে কেবল সরকারি রেডিও বা টিভি চ্যানেলের খবরের ওপর আস্থা রাখুন।

