জঙ্গল সলিমপুরে ৪ হাজার সদস্যের মেগা অভিযান: চারদিক ঘেরাও, আকাশপথে ড্রোন নজরদারি

 জঙ্গল সলিমপুরে ৪ হাজার সদস্যের মেগা অভিযান: চারদিক ঘেরাও, আকাশপথে ড্রোন নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | মার্চ ০৯, ২০২৬


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড় জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। আজ সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি এবং এপিবিএন-এর প্রায় ৪ হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। র‍্যাব কর্মকর্তা নিহতের ঘটনার দেড় মাস পর এই বিশাল বাহিনী নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় হানা দিল প্রশাসন।

পুরো এলাকা এখন রণক্ষেত্র

অভিযান শুরুর আগে সোমবার ফজরের পরপরই জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার সকল প্রবেশ ও বাহিরের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে এলাকাটি চারদিক থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। দুর্গম পাহাড় হওয়ায় ড্রোনের মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তল্লাশিতে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ ডগ স্কোয়াড।

কেন এই বিশাল অভিযান?

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় একটি অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয় র‍্যাব। সেই ঘটনায় র‍্যাব-৭-এর নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীদের ধরতে এবং এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। জঙ্গল সলিমপুরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন ও রোকন বাহিনীর আস্তানা নিশ্চিহ্ন করতেই আজকের এই 'মেগা ড্রাইভ'।

জঙ্গল সলিমপুর: দেশের ভেতরে অন্য এক দেশ

দীর্ঘ চার দশক ধরে প্রায় ৩,১০০ একর সরকারি খাস জমি দখল করে এখানে গড়ে উঠেছে এক 'নিষিদ্ধ নগরী'।

 * সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য: এখানে সন্ত্রাসীদের নিজস্ব কার্ড সিস্টেম ও চেকপোস্ট রয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশ যেখানে প্রায় অসম্ভব।

 * পাহাড় খেকোদের বাণিজ্য: প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সরকারি পাহাড় কেটে এখানে অবৈধ প্লট বাণিজ্য চলছে বছরের পর বছর।

 * অস্ত্র ও মাদকের আস্তানা: দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের সুযোগ নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে অস্ত্র ও মাদকের বিশাল নেটওয়ার্ক।

প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানিয়েছেন, "যৌথ বাহিনীর ৪ হাজার সদস্য একযোগে এই অভিযানে কাজ করছেন। কোনো অপরাধী যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য সব রাস্তা ব্লক করা হয়েছে। অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।"

প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই এলাকাটি দখলমুক্ত করে সেখানে কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ এবং সাফারি পার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প বাস্ত

বায়ন করা হবে।


Previous Post Next Post
আপনার অঞ্চলের স্থানীয় খবর, ভাগ করেনিন আমাদের সাথে! আপনার ভ্রমণ কাহিনী,আপনার সাহিত্য সৃষ্টি আমাদের সাথে ভাগ করেনিতে WHATSAPP :6289008713