বাংলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা: বিধানসভা নির্বাচনে মোতায়েন করা হচ্ছে ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আপনাদের সাথে আজ কলমে - অভিজিৎ।
:আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয় গড়তে চলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্যজুড়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এবারের নির্বাচনে প্রায় ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করা হচ্ছে, যা ভারতের ইতিহাসে কোনো একটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে সর্বোচ্চ।
রেকর্ড ভাঙা মোতায়েন
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত বড় রাজ্যগুলোতেও ধাপে ধাপে বাহিনী মোতায়েন করা হলেও, পশ্চিমবঙ্গে এবার প্রায় ২,৪০০ কোম্পানি বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১০৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতে চাইছে কমিশন।
কেন এই বিশাল বাহিনী?
রাজ্যের স্পর্শকাতর বুথগুলোর নিরাপত্তা এবং ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতেই এই বিপুল পরিমাণ বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে:
* এলাকা দখল রোধ: নির্বাচনের আগে থেকেই স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে রুট মার্চ বা টহলদারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভয় দূর করা।
* শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ: বুথের ভেতরে এবং বাইরে কড়া নজরদারি চালিয়ে ছাপ্পা ভোট বা কোনো প্রকার অশান্তি রুখে দেওয়া।
* ভোট পরবর্তী সহিংসতা রোধ: ভোট মিটে যাওয়ার পরও যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বেশ কিছু বাহিনী ভোট গণনার দিন পর্যন্ত রাজ্যে অবস্থান করবে।
পর্যায়ের বিন্যাস
সূত্র অনুযায়ী, এই বিশাল বাহিনী কয়েক দফায় রাজ্যে প্রবেশ করবে। ইতিপূর্বেই বেশ কিছু কোম্পানি রাজ্যে পৌঁছে রুট মার্চ শুরু করে দিয়েছে। মূলত সিআরপিএফ (CRPF), বিএসএফ (BSF), সিআইএসএফ (CISF) এবং আইটিবিপি (ITBP)-র মতো আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা এই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
> কমিশনের বার্তা: "গণতন্ত্রের উৎসবে সাধারণ মানুষ যাতে ভয়হীনভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় কোনো আপস করা হবে না।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ইতিহাস এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই কমিশন এবার শুরু থেকে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই বিশাল বাহিনী মোতায়েন আসন্ন নির্বাচনে অশান্তি রুখতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।



