ঝাড়খণ্ডের ছাত্রা জেলায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ।
ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে আকাশছোঁয়া ট্র্যাজেডি: এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় মৃত ৭, শোকের ছায়া দেশজুড়ে
নিজস্ব প্রতিনিধি, নিউসহাঙ্গার (NEWSHUNGAR) | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ছাত্রা, ঝাড়খণ্ড: চিকিৎসার জন্য দিল্লি যাওয়ার পথে মর্মান্তিক পরিণতি। ঝাড়খণ্ডের ছাত্রা জেলার সিমরিয়া থানা এলাকার গভীর জঙ্গলে ভেঙে পড়ল একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। সোমবার রাতের এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২ জন পাইলট ও ১ জন রোগীসহ মোট ৭ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ধ্বংসাবশেষ থেকে সাতটি নিথর দেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল।
ঘটনার বিবরণ: ঠিক কী ঘটেছিল?
সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচির বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রেডবার্ড এয়ারওয়েজের (Redbird Airways) বিচক্র্যাফট সি-৯০ (Beechcraft C90) বিমানটি। এতে ৪১ বছর বয়সী দগ্ধ রোগী সঞ্জয় কুমারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ারলিফট করা হচ্ছিল।
উড়ান শুরুর মাত্র ২৩ মিনিট পর, অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাডার থেকে অদৃশ্য হওয়ার আগে পাইলট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিমানের পথ পরিবর্তনের (Deviation) অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এরপরই ছাত্রার কাসারিয়া পঞ্চায়েত এলাকার চতরা-সিমরিয়া সীমান্তের পাহাড়ি জঙ্গলে বিকট শব্দে আছড়ে পড়ে বিমানটি।
নিহতদের পরিচয়:
দুর্ঘটনায় মৃত ৭ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন:
১. ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত (পাইলট)
২. ক্যাপ্টেন সবরাজদীপ সিং (কো-পাইলট)
৩. সঞ্জয় কুমার (রোগী)
৪. অর্চনা দেবী (রোগীর আত্মীয়)
৫. ধুরু কুমার (রোগীর আত্মীয়)
৬. ডাঃ বিকাশ কুমার গুপ্ত (চিকিৎসক)
৭. শচীন কুমার মিশ্র (প্যারামেডিক)
তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি:
ছাত্রার জেলা প্রশাসক (DC) কীর্থিশ্রী জি. সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ের কবলে পড়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে সঠিক কারণ অনুসন্ধানে দিল্লির এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-এর একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।"
উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন ছিল কারণ বিমানটি জঙ্গলের এমন এক দুর্গম এলাকায় পড়েছে যেখানে পৌঁছানো দুষ্কর। মঙ্গলবার সকাল থেকে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় দেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্মৃতিতে ফিরে আসা আতঙ্ক:
উল্লেখ্য, গত মাসেই মহারাষ্ট্রে প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঝাড়খণ্ডের এই ঘটনা ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।
