আলুর লড়াই: হেঁশেল বনাম পকেট!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঙালির প্রিয় 'আলু'। একদিকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বাজারদর, অন্যদিকে চাষী ও ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। ঠিক কী ঘটছে এই 'আলু যুদ্ধে'?
📉 কেন এই অচলাবস্থা?
রাজ্য সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের পাতে সস্তায় আলু পৌঁছে দেওয়া। তাই ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর ওপর অলিখিত বা সাময়িক 'নিষেধাজ্ঞা' জারি করা হয়। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ বলছে অন্য কথা:
* ভরা কোল্ড স্টোরেজ: হিমঘরগুলোতে কোটি কোটি টন আলু পড়ে আছে। বাইরে পাঠাতে না পারায় সেই আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
* চাষীর হাহাকার: ভিন রাজ্যের বাজার না পাওয়ায় চাষীরা ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। ফলে অনেক জায়গায় কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
* ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট: লরি ধর্মঘট এবং প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে আন্দোলনের জেরে সরবরাহ ব্যবস্থা বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
⚖️ পাল্টাপাল্টি যুক্তি
| পক্ষ | সরকারের অবস্থান | ব্যবসায়ী ও চাষীদের দাবি |
|---|---|---|
| মূল লক্ষ্য | সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে আলুর দাম কমানো। | লোকসানের হাত থেকে বাঁচা ও ন্যায্য লাভ করা। |
| যুক্তি | মজুদদার রুখতে এবং রাজ্যে জোগান বাড়াতে রফতানি নিয়ন্ত্রণ জরুরি। | রাজ্যে আলুর উদ্বৃত্ত রয়েছে, তাই বাইরে না পাঠালে চাষী মরবে। |
| সমাধান | ধাপে ধাপে ২ লক্ষ টন আলু বাইরে পাঠানোর অনুমতি। | কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই অবাধ রফতানির সুযোগ। |
⚠️ রাজনৈতিক উত্তাপ
এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদও তুঙ্গে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের **"ভুল নীতি"**র খেসারত দিতে হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের। অন্যদিকে, সরকারের দাবি—কালোবাজারি রুখতেই এই কড়া পদক্ষেপ।
> সারকথা: সাধারণ মানুষের সস্তা আলু পাওয়ার আনন্দ আর কৃষকের চোখের জল—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গের কৃষি রাজনীতি। কোল্ড স্টোরেজের গেট খুললেও সমস্যার জট পুরোপুরি খোলেনি।j

