নিজস্ব প্রতিনিধি, ভাঙ্গড় | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই ফের উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গড়। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর একটি পূর্বনির্ধারিত সভাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। তৃণমূল ও আইএসএফ কর্মীদের মধ্যেকার এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে খবর, আজ মঙ্গলবার ভাঙ্গড়ের হাতিশালা এলাকায় আইএসএফ-এর একটি জনসভা হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, গতকাল সোমবার রাতে যখন আইএসএফ কর্মীরা সভার প্যান্ডেল বাঁধার কাজ করছিলেন, তখন একদল দুষ্কৃতী লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয়। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আইএসএফ কর্মীরাও। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
হামলার অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
আইএসএফ-এর দাবি: বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর অভিযোগ, "তৃণমূল ভয় পেয়েছে। আমাদের সভায় সাধারণ মানুষের ঢল নামবে জেনেই ওরা গুন্ডাবাহিনী পাঠিয়ে প্যান্ডেল ভেঙেছে এবং আমাদের কর্মীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে।"
তৃণমূলের পালটা দাবি: স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আইএসএফ কর্মীরাই এলাকায় প্ররোচনা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথে বাধা সৃষ্টি করে সভা করার চেষ্টা হচ্ছিল, যা নিয়ে গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করলে আইএসএফ কর্মীরাই প্রথমে আক্রমণ চালায়।
বর্তমান পরিস্থিতি: থমথমে ভাঙ্গড়
আজ সকাল থেকেই ভাঙ্গড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় অঘোষিত বনধের পরিবেশ। রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের দেখা নেই, দোকানপাট বন্ধ। পুলিশি পাহারায় প্যান্ডেল তৈরির কাজ পুনরায় শুরু হলেও উত্তেজনার পারদ কমেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF)।
পুলিশের ভূমিকা
বারুইপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সভার অনুমতি থাকলেও সেখানে কড়া নিরাপত্তা বলয় রাখা হচ্ছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
নজর রাখুন: বিকেলের সভায় নওশাদ সিদ্দিকী কী বার্তা দেন এবং তৃণমূল এর পাল্টা কী কর্মসূচি নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
