২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন:-
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তার আগেই পশ্চিমবঙ্গের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে এবং সাধারণ ভোটারদের ভয় কাটাতে কোমর বেঁধে নামছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আগামী ১ মার্চ থেকেই রাজ্যে প্রথম দফার কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকতে শুরু করবে বলে নবান্ন ও পুলিশ সূত্রে খবর।
আগাম বাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্য:-
সাধারণত নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে বাহিনী পাঠানো হয়। তবে বিগত নির্বাচনগুলোতে বাংলায় রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ আসায়, এবার অনেক আগেভাগেই বাহিনীকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো:
রুট মার্চ: এলাকার দখল নেওয়া বা ‘এরিয়া ডমিনেশন’ করা।
ভোটারদের আত্মবিশ্বাস:-
ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ তৈরি করা যাতে তাঁরা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন।
অস্ত্র উদ্ধার: সীমান্ত এলাকা এবং গোলমালপ্রবণ অঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও দুষ্কৃতীদের দমনে পুলিশকে সহায়তা করা।
প্রথম দফায় কত বাহিনী?
সূত্রের খবর, প্রথম দফায় প্রায় ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CRPF, BSF, CISF) বাংলায় আসতে পারে। মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা (বিশেষত ভাঙ্গড় ও ক্যানিং), মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে এই বাহিনীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গত কয়েকদিনে ভাঙ্গড়ে যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই মোতায়েন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রশাসনের প্রস্তুতি:-
বাহিনীর আবাসন এবং লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য ইতিমধ্যেই প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। স্কুল, কলেজ বা কমিউনিটি হলগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে যেখানে জওয়ানরা অস্থায়ীভাবে থাকবেন। কলকাতা পুলিশের আওতাধীন এলাকাগুলোতেও নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি মোতায়েন করা হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:-
বিজেপি: রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, "বিগত পঞ্চায়েত বা লোকসভা ভোটে যে সন্ত্রাস দেখা গেছে, তা রুখতে এবার আগাম বাহিনী দরকার ছিল। কমিশনের এই পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।"
তৃণমূল কংগ্রেস:- শাসক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে বাহিনীকে যেন রাজনৈতিক স্বার্থে বা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে ব্যবহার না করা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।"
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ১ মার্চ থেকে বাহিনী মোতায়েন শুরু হলেও, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর এই সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বাড়ানো হতে পারে।
