ভারতে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল, ৮ লস্কর জঙ্গি গ্রেপ্তার
নয়াদিল্লি | নিজস্ব সংবাদদাতা
ভারতের রাজধানীসহ বিভিন্ন প্রান্তে রক্তক্ষয়ী হামলার এক ভয়ঙ্কর নীল নকশা ভেস্তে দিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮ জন দুর্ধর্ষ জঙ্গিকে, যাদের সাথে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI এবং জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র।
১. কোথা থেকে এসেছে এই জঙ্গিরা?
তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। গ্রেপ্তারকৃত ৮ জনের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। তারা সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। ভারতে থিতু হতে তারা বেছে নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোকে।
২. কারা এই ৮ জন? (নাম ও পরিচয়)
পুলিশি জেরায় ধৃতদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে:
* তামিলনাড়ু থেকে ধৃত ৬ জন: মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাফায়াত হোসেন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ উজ্জ্বল এবং উমর।
* পশ্চিমবঙ্গ থেকে ধৃত ২ জন: উমর ফারুক (মালদা, পশ্চিমবঙ্গ) এবং রবিউল ইসলাম বাংলাদেশি নাগরিক।
৩. কি করতে এসেছিল তারা? (উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা)
তদন্তকারীদের মতে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দিল্লির লাল কেল্লা, জনাকীর্ণ ধর্মীয় স্থান (যেমন- চাঁদনি চক এলাকা) এবং মেট্রো স্টেশনে বড় ধরনের আইইডি (IED) বিস্ফোরণ ঘটানো।
* মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ: তারা দিল্লির জনপথ ও কাশ্মীরি গেট মেট্রো স্টেশনে 'ফ্রি কাশ্মীর' এবং ভারতবিরোধী পোস্টার লাগিয়ে মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল।
* রেকি (Reconnaissance): ধৃতদের মোবাইল থেকে বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকার ভিডিও এবং ম্যাপ পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে তারা হামলার আগে জায়গাগুলো পর্যবেক্ষণ করছিল।
৪. কিভাবে ধরা পড়ল তারা? (অপারেশন ডিটেইলস)
এই অপারেশনটি ছিল গোয়েন্দা এবং প্রযুক্তির এক অসাধারণ সমন্বয়:
* সূত্রপাত: গত ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির মেট্রো স্টেশনে রহস্যময় কিছু পোস্টার পুলিশের নজরে আসে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ দুই যুবককে চিহ্নিত করে।
* ডিজিটাল ট্রেইল: মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন এবং কল রেকর্ড অনুসরণ করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন তারা কলকাতায় লুকিয়ে আছে।
* প্রথম গ্রেপ্তার: গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতার রাজারহাট এলাকা থেকে উমর ফারুক ও রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জেরা করেই জানা যায় যে, এই চক্রের বাকি সদস্যরা তামিলনাড়ুর তিরুপুরে গার্মেন্টস শ্রমিক সেজে আত্মগোপন করে আছে।
* যৌথ অভিযান: দিল্লি পুলিশ ও তামিলনাড়ু পুলিশের যৌথ অভিযানে তিরুপুরের বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে বাকি ৬ জনকে জাল আধার কার্ডসহ হাতেনাতে ধরা হয়।
মাস্টারমাইন্ডের হদিস
এই পুরো মডিউলটি পরিচালনা করছিল শাব্বির আহমেদ লোন নামে এক ব্যক্তি, যে বর্তমানে বাংলাদেশে বসে পাকিস্তানের নির্দেশে কাজ করছে। সে মূলত ভারতে অবৈধভাবে থাকা বাংলাদেশিদের মগজ ধোলাই করে এবং ভুয়া পরিচয়পত্র দিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপে নিয়োগ করে।

