ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) গত ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ‘প্রহার’ (PRAHAAR) প্রকাশ করেছে। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নয়াদিল্লি, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: সীমান্তপার সন্ত্রাস থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক সাইবার হামলা—সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ভারত সরকার সোমবার প্রকাশ করল দেশের প্রথম সুসংগঠিত সন্ত্রাসবিরোধী নীতি, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রহার’ (PRAHAAR)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত আট পৃষ্ঠার এই নথিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কী এই ‘প্রহার’?
‘প্রহার’ শব্দটি মূলত একটি সংক্ষিপ্ত রূপ (Acronym), যা ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোর সাতটি স্তম্ভকে নির্দেশ করে:
* P (Prevention): সন্ত্রাসবাদী হামলা প্রতিরোধ ও নাগরিকদের সুরক্ষা।
* R (Response): হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত এবং আনুপাতিক পাল্টা ব্যবস্থা।
* A (Aggregating): কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন।
* H (Human Rights): মানবাধিকার ও আইনের শাসন বজায় রেখে কাজ করা।
* A (Addressing Conditions): সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর পরিস্থিতি বা উগ্রবাদ (Radicalisation) দমন।
* A (Aligning): আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টার সাথে তাল মেলানো।
* R (Recovery): হামলার পর দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা ও স্থিতিস্থাপকতা।
নীতির প্রধান দিকগুলো:
* সাইবার ও প্রযুক্তিগত হুমকি: নীতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কেবল সীমান্তপার সশস্ত্র সন্ত্রাসই নয়, বর্তমানে অপরাধী হ্যাকার এবং বিভিন্ন রাষ্ট্র সাইবার হামলার মাধ্যমে ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। ড্রোন হামলা, ডার্ক ওয়েব, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের মতো নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
* স্থল, জল ও আকাশপথের সুরক্ষা: ভারত এখন তিন দিক থেকেই (জল, স্থল এবং আকাশ) হামলার আশঙ্কায় রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ, রেলওয়ে, বিমান চলাচল, বন্দর এবং পারমাণবিক শক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
* আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়: রাজ্যগুলোর অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড (ATS) এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (IB) অধীনে থাকা মাল্টি এজেন্সি সেন্টারকে (MAC) আরও শক্তিশালী করা হবে। এফআইআর (FIR) দায়ের থেকে শুরু করে বিচার শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে আইনি বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
* উগ্রবাদ দমন (De-radicalisation): ধর্মীয় বা গোষ্ঠীগত বিদ্বেষ ছড়ানো রুখতে স্থানীয় নেতা ও এনজিও-দের সাথে নিয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এমনকি কারাগারে অপরাধীদের মাধ্যমে যাতে নতুন কেউ উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
> উদ্ধৃতি: "সন্ত্রাসবাদকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, জাতি বা জাতীয়তার সাথে যুক্ত করা যাবে না। ভারত সবসময়ই সন্ত্রাসবাদের শিকার হওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং কোনো অবস্থাতেই হিংসার কোনো অজুহাত মেনে নেওয়া হবে না।" — কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।


