২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আগে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে এবারের বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরান।
বিশ্বকাপে খেলবে না ইরান: যুদ্ধের আঁচ এবার ফুটবল ময়দানে
নিজস্ব প্রতিবেদক | তেহরান ১২ মার্চ, ২০২৬
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?
আরও পড়ুন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: ইমামদের বেতন সর্বোচ্চ ৭০ হাজার!
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যু এবং হাজার হাজার নাগরিকের প্রাণহানির পর তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারে না।
ক্রীড়ামন্ত্রী দোনিয়ামালি বলেন, "যেই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে এবং আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, তাদের দেশে আমাদের সন্তানরা (ফুটবলাররা) নিরাপদ নয়। এই পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়।"
এক নজরে মূল কারণগুলো:
* রাজনৈতিক প্রতিবাদ: শীর্ষ নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে যেতে নারাজ তেহরান।
* নিরাপত্তাহীনতা: ইরানি ফুটবলারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই বলে দাবি করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
* ভিসা জটিলতা: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে দলের যাতায়াত নিয়ে আগে থেকেই অনিশ্চয়তা ছিল।
মাঠে এর প্রভাব
ইরান গ্রুপ পর্যায়ে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশরের বিপক্ষে লড়বে বলে নির্ধারিত ছিল। তাদের সবকটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। ইরানের এই হঠাৎ নাম প্রত্যাহারে গ্রুপ বিন্যাস নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বিকল্প দল হিসেবে কারা আসছে?
আরও পড়ুন নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে ইরানি মিডিয়ায় তোলপাড়: জল্পনা নাকি প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ?
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল চূড়ান্ত পর্যায় থেকে নাম প্রত্যাহার করলে সেই জায়গায় অন্য কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, বাছাইপর্বে ইরানের ঠিক পরেই থাকা কোনো এশীয় দেশ (যেমন- সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরাক) এই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখনো এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করেননি।
ফুটবল প্রেমীদের জন্য এটি একটি বিষাদময় মুহূর্ত। মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এখন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় শুধুই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আর রাজনীতির কালো ছায়া।
আমি কি এই বিষয়ে আরও কোনো তথ্য বা ফিফার সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নি
য়ে কোনো আপডেট দেব?

