সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা: বিপর্যয়ের মুখে মধ্যপ্রাচ্যের ডিজিটাল সেবা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | NEWSHUNGAR
৩ মার্চ, ২০২৬
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার আঁচ এবার পড়ল বিশ্বের অন্যতম বড় টেক জায়ান্ট অ্যামাজনের ওপর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) অবস্থিত অ্যামাজনের দু’টি বিশাল ডেটা সেন্টার সরাসরি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনের একটি স্থাপনার কাছেও ড্রোন বিস্ফোরণে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS)।
হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত রবিবার আমিরাতের দু’টি ডেটা সেন্টারে ড্রোন দিয়ে ‘সরাসরি আঘাত’ করা হয়। এর ফলে স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় অগ্নিনির্বাপক বাহিনী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ সময় ব্যবহৃত পানির কারণেও অনেক সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিপর্যস্ত অনলাইন সেবা
এই হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অ্যামাজনের ক্লাউড সার্ভার নির্ভর অসংখ্য অ্যাপ ও ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে আমিরাত ও বাহরাইনের ব্যাংকিং সেবা, অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম এবং বেশ কিছু এয়ারলাইনসের বুকিং সার্ভিসে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় স্টক মার্কেটের লেনদেনেও এর প্রভাব পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
হামলার নেপথ্যে কী?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যে সংঘাত শুরু হয়েছে, এটি তারই অংশ। ইরানের পক্ষ থেকে চালানো পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আমিরাত ও বাহরাইনের এই ডেটা সেন্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অ্যামাজনের জরুরি নির্দেশনা
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় অ্যামাজন তাদের গ্রাহকদের জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে:
* সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের (Data) ব্যাকআপ অনতিবিলম্বে নিশ্চিত করা।
* মধ্যপ্রাচ্যের সার্ভারের পরিবর্তে ইউরোপ বা এশিয়া অঞ্চলের বিকল্প সার্ভারে কাজ সরিয়ে নেওয়া।
* অপ্রত্যাশিত বিভ্রাট এড়াতে নিজস্ব ডিস্টার রিকভারি প্ল্যান কার্যকর করা।
অ্যামাজন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে পুনরায় সেবা সচল করতে তাদের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় এই বিপর্যয় স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
