হেডলাইন: তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল কোটি টাকার সেতু! বিহারে দুর্নীতির 'জলছবি', অ্যাকশনে সরকার!
আবারও বিহার! আবারও সেই চেনা ছবি! উন্নয়নের জোয়ারে ভাসতে থাকা বিহারে আবারও এক তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ল আস্ত এক ব্রিজ। ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের সিধবলিয়া ব্লকের গ্যাংওয়া গ্রামে। ঘোঘারি নদীর ওপর তৈরি হতে থাকা এই আরসিসি (RCC) সেতুটি রবিবার বিকেলে ঢালাইয়ের কাজ চলার সময় হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত বিকেলে?
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, ব্রিজের উপরের অংশে কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ চলছিল পুরোদমে। হঠাৎ এক বিকট শব্দ! কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রায় ২৯ মিটার লম্বা ব্রিজের একটি বড় অংশ নদীর বুকে তলিয়ে যায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, "বালির ওপর যেন প্রাসাদ বানানো হচ্ছিল!" নিম্নমানের সিমেন্ট আর মরচে ধরা লোহার রড দিয়েই চলত এই ‘উন্নয়ন’-এর কাজ। ভাগ্যের জোরে সেই সময় কোনো শ্রমিক নিচে চাপা পড়েননি, নইলে আজ শ্মশানে পরিণত হতে পারত এই এলাকা।
প্রশাসনের বজ্রকঠোর পদক্ষেপ:
এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে নীতীশ সরকার। গোপালগঞ্জের জেলাশাসক (DM) পবন কুমার সিনহা নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— গত এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো বড় ইঞ্জিনিয়ার সাইট ভিজিট করেননি!
অ্যাকশন রিপোর্ট:
* ইঞ্জিনিয়ারদের মাথায় আকাশ ভাঙল: কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে একযোগে ৩ জন ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ভূপেশ কুমার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতি মাধুশিয়া এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার দিলীপ তিওয়ারি।
* ঠিকাদারের কপালে দুঃখ: নির্মাণকারী সংস্থা 'বাপুধাম কনস্ট্রাকশন'-কে তড়িঘড়ি কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
* আর্থিক দণ্ড: প্রায় ২.৮৭ কোটি টাকার এই প্রজেক্টের পুরো ক্ষতির দায় এখন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও আধিকারিকদের ওপরেই বর্তাবে বলে জানা যাচ্ছে।
জনসাধারণের প্রশ্ন:
বিহারের আকাশে-বাতাসে এখন একটাই প্রশ্ন— আর কতদিন এভাবে সরকারি টাকা জলে (নদীতে) যাবে? তদন্ত কি আদৌ শেষ পর্যন্ত পৌঁছাবে, নাকি ফাইল চাপা পড়বে দুর্নীতির অন্ধকূপে?
দেখতে থাকুন, আরও আপডেটের জন্য আমরা নজর রাখছি!

