Top News

কলকাতা সিইও দপ্তরের সামনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ: উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি

 কলকাতা সিইও দপ্তরের সামনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ: উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা | ১লা এপ্রিল, ২০২৬



ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তপ্ত হতে শুরু করেছে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এবার ভোটার তালিকায় 'বহিরাগত'দের নাম তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দপ্তর চত্বর। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় উত্তর কলকাতার এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

ঘটনার সূত্রপাত



এদিন সকালে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল এবং প্রচুর সংখ্যক কর্মী-সমর্থক সিইও দপ্তরে ডেপুটেশন দিতে পৌঁছান। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের চোখের সামনেই বিজেপি পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটার তালিকায় 'বহিরাগত' এবং ভুয়ো নাম ঢোকানোর চেষ্টা করছে। ঠিক সেই সময়ই বিজেপির একদল কর্মী সেখানে উপস্থিত হলে দু-পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বচসা।

মিনিট দশেকের মধ্যেই বচসা হাতাহাতি এবং পরে ইটবৃষ্টির রূপ নেয়। পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। ঘটনায় দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা



এই ঘটনা নিয়ে নবান্ন থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন:

> "বিজেপি জানে গণতান্ত্রিক উপায়ে তারা জিততে পারবে না, তাই এখন ভোটার তালিকায় কারচুপি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ বা অন্যান্য রাজ্য থেকে লোক এনে এখানে ভোটার করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, যদি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।"

বিজেপির পাল্টা অভিযোগ



পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্বও। রাজ্য বিজেপি সভাপতির দাবি, তৃণমূল হার নিশ্চিত জেনেই এখন থেকেই অজুহাত তৈরি করছে। তাঁদের অভিযোগ, আদতে তৃণমূলই ভোটার তালিকা থেকে বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে এবং আজ সিইও দপ্তরের সামনে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরি করেছে।

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

বিকেলের দিকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ভোটার তালিকা নিয়ে যেকোনো অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো রকম কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় বর্তমানে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

শহর জুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকা থমথমে ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এই ভোটার তালিকা বিতর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

Previous Post Next Post
আপনার অঞ্চলের স্থানীয় খবর, ভাগ করেনিন আমাদের সাথে! আপনার ভ্রমণ কাহিনী,আপনার সাহিত্য সৃষ্টি আমাদের সাথে ভাগ করেনিতে WHATSAPP :6289008713